বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ১১ কোটি বই সংগ্রহে ব্যয় ৪৮৯ কোটি টাকা

শিক্ষা

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: আগামী ২০২৩ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে ১১ কোটি ২০ লাখ বই তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৮২টি লটে এসব বই সংগ্রহে ব্যয় হবে ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আগামী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহের জন্য দুটি প্যাকেজে পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের লক্ষ্যে ক্রয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দ্বিতীয় পর্যায়ে ইবতেদায়ি (১ম ও ২য় শ্রেণি), মাধ্যমিক ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), শিক্ষক নির্দেশিকা এবং কারিগরি স্তরের (ট্রেড বই) ১১ কোটি ২০ লাখ ১ হাজার ৪৭৪ কপি পাঠ্যবই সরবরাহের জন্য (এনসিটিবি) ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে।

বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে দরপত্র আহŸান করা হলে ১৮২টি দরপত্র আইডির বিপরীতে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান সর্বমোট ১৫০২টি দরপত্র দাখিল করে। দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে ১৭৬টি এবং পরে ৬টি লট উন্মুক্ত করা হয়। এরপর দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো যাচাই ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করে কারিগরি উপ-কমিটি দরপত্র নির্দেশিকায় বর্ণিত কোয়ালিফিকেশন ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে প্রতিবেদন পাঠায়।

গত ১, ৭ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্রগুলো মূল্যায়ন করে। দাখিল করা দরপত্রের মধ্যে সিডিউল সন্নিবেশিত শর্তগুলো পূরণ করায় কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ১২০৩টি দরপত্রকে রেসপন্সিভ এবং ২৯৯টি দরপত্রকে নন-রেসপন্সিভ বলে বিবেচনা করে। মূল্যায়ন কমিটি ১৮২টি দরপত্র রেসপন্সিভ আখ্যায়িত করে সর্বনিম্ন দরদাতার দর গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করে। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে এনসিটিবি কর্তৃক গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে মূল্যায়িত দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠায়। দরপত্রগুলো বৈধতার মেয়াদ আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।

১৮২টি দরপত্রের সর্বমোট দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর ৬৬৯ কোটি ৯৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সর্বমোট উদ্বৃত দর ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকা, যা সর্বমোট প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ২৬.৯৭ শতাংশ কম। আরও দেখা যায় যে, দরপত্রের ১৮২টি লটেই উদ্বৃত্ত দর প্রাক্কলিত দামের চেয়ে কম। উল্লেখ্য, কোনো লটেই ডিসকাউন্ট প্রস্তাব করা হয়নি।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি ৮(১৩) (ক) অনুসারে এককভাবে পক্ষপাতহীন ঘোষণাসম্বলিত বিবৃতি এবং বিধি ৮(১৩) (খ) অনুসারে যৌথভাবে ঘোষণাপত্র দিয়েছেন। এ ক্রয়ের বিষয়ে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান (হোপ) হিসেবে চেয়ারম্যান, এনসিটিবি প্রত্যয়ন করেছেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ মর্মে প্রত্যয়ন করা হয় যে, আলোচ্য দরপত্র প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণে ক্রয়/সংগ্রহ/নির্মাণ/সেবাসংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি/প্রবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রচলিত নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটেনি।

সূত্র জানায়, এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

স্ব.বা/রু

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.