সিলেবাস ঠিক না করায় উদ্বেগে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: এমবিবিএসে ভর্তি-ইচ্ছুক হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এবারের পরীক্ষার্থীরা এইচএসসিতে ‘কাস্টমাইজড’ (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা পুরো সিলেবাসের ওপরই নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির পথ রুদ্ধ হওয়ার ঘোরতর আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে গত বছরে পাশ করে আসা শিক্ষার্থীদের ‘চান্স’ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে।

এমবিবিএসে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম সোমবার শুরু হয়েছে। অনলাইনে একটানা ১০ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আর ভর্তি পরীক্ষা হবে ১ এপ্রিল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কোন সিলেবাসে পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা তিনি জানেন না। এ নিয়ে একটি কমিটি আছে। গোপনীয়তার স্বার্থে সেই কমিটির নাম প্রকাশ করা যাবে না। এবারে এমবিবিএসে ভর্তির লক্ষ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নীতিমালা আর ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্দেশনা জারি করা হয়। নীতিমালার ৩.৩ অনুচ্ছেদে এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস অনুযায়ী ১০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণজ্ঞানে (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ) ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের কত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের অংশ কীভাগে ফলের সঙ্গে হিসাব করা হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের আগে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নীতিমালায় স্পষ্ট না করার কারণ হচ্ছে গোটা সিলেবাসেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর কারণ হচ্ছে, ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা না হলেও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পুরা সিলেবাসে হয়েছে। আর এ বছর যেহেতু বোর্ড পরীক্ষা হয়েছে, তাই ফুল সিলেবাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নীতিমালা নিয়ে প্রথমত ধোঁয়াশা আর দ্বিতীয়ত সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা নিয়মিত (২০২১ সালের) শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। আর ২০২০ সালে এইচএসসি শিক্ষার্র্থীরা যদিও অটোপাশ করে এসেছে, কিন্তু তারা পরীক্ষা দেওয়ার আশায় গোটা সিলেবাসই পড়ে এসেছে। উল্লিখিত অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়নি আংশিক না গোটা সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছে।

এতে সামগ্রিকভাবে তাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে এইচএসসির পুরো সিলেবাসে পরীক্ষা হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ২০২০ সালে বা এক বছর আগে পাশ করে আসা শিক্ষার্থীরা।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, এইচএসসি পরীক্ষা যে সিলেবাসে নেওয়া হয়েছে সেটাতেই হওয়া উচিত ভর্তি পরীক্ষা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল) সঙ্গে কথা হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কথা বলা হবে।

জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর একে একে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছের তিন বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট, জিএসডি গ্রুপের ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ও এই সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাকিগুলোও এ নিয়ে ইতিবাচক ভাবছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী যুগান্তরে ফোন করেছেন। নাম প্রকাশ না করে তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর তারা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন যদি পুরো সিলেবাসেই ভর্তি পরীক্ষা হয়, তাহলে প্রস্তুতি যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হবে। এতে বেশি সুবিধা পাবে গত বছরে পাশ করা এবং সচ্ছল পরিবারের সন্তান ও শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। কেননা, ২০২০ সালের বোর্ড পরীক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত পড়ার সুবিধা পেয়েছে।

গত বছর বা ২০২১ সালের শিক্ষার্থীরা গোটা সিলেবাস পড়েনি। আর সব পড়ার জন্য সময় পাচ্ছে মাত্র ৩ মাস। তাছাড়া এই শিক্ষার্থীরা সশরীরে তেমন ক্লাসই করতে পারেনি। যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছে তাও অনলাইনে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ প্রশ্নই বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে করা হয়। এগুলো পাঠ্যপুস্তক হতে বুঝে পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এবং শিক্ষকদের সহায়তার প্রয়োজন হয়। বোর্ড পরীক্ষার চেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশের পড়া আলাদা হওয়ায় এমনও আছে যে, একটি সিলেবাসে বেশকিছু অংশই হয়তো কোনো কোনো শিক্ষার্থী কোনোদিনই পড়েনি। তাছাড়া অনলাইন শিক্ষার সুবিধা প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা তেমন পায়নি।

অনেকে প্রাইভেট-কোচিংয়ের সুবিধাও তেমন পায়নি। ফলে এই বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি বৈষম্য তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এই বৈষম্যের শিকার হবে বেশি। এক্ষেত্রে দুবছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া ২০২০ সালের শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবে আরও বেশি। তাই শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দাবি করেছে।

স্ব.বা/ রু

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *