রাজশাহীতে এসি-বোয়ালিয়ার নেতৃত্বে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের বার উদ্ধার

রাজশাহী লীড

স্টাফ রিপোর্টার: বাদী দ্বিজেন ধর (৫০), পিতা-দ্বীনেশ ধর, সাং-জামনগর, থানা-বাগাতিপাড়া, জেলা-নাটোর, এ/পি সাং-মাস্টারপাড়া (মুন্সিবাড়ী রোড), থানা-ফেনী সদর, জেলা-ফেনী ও তার মেজ ভাই জিতেন ধর (৪৮) থানায় এসে লিখিতভাবে জানান, অজ্ঞাতনামা আসামীরা সরকারী কর্মচারী, “প্রশাসনের লোক” পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে তাদের নিকটে থাকা ১৭টি স্বর্ণের বার, ওজন ১৭০ ভরি, মূল্য ১,১২,৭১,০০০/-টাকা, ০২টি মোবাইল ফোন সেট, মূল্য ২১,২০০/-টাকা এবং নগদ ৩,৫০০/-টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

বাদী দ্বিজেন ধর (৫০) গত ২০/১২/২০২০ খ্রিঃ ফেনী জেলার নুসরাত জুয়েলার্স এর মালিক জনাব মোঃ সুমন এর নিকট হ’তে ১৫টি স্বর্ণের বার এবং হীরা জুয়েলার্স এর মালিক জনাব মোঃ মাবুল হক এর নিকট হ’তে ০২টি স্বর্ণের বার বাঁকীতে ক্রয় করে গ্রামীণ ট্রাভেলস বাস যোগে গত ২১/১২/২০২০ খ্রিঃ ভোরে রাজশাহী পুঠিয়ায় নেমে তার মেজ ভাই জিতেন ধর (৪৮) এর বাসায় আসেন। স্বর্ণের বারগুলো সাহেব বাজার স্বর্ণপট্টি “লাইলা জুয়েলার্স” এর মালিক জনাব মোঃ মানিক এর নিকটে বিক্রয় করার কথা ছিল। ইতোপূর্বে বাদী কয়েকবার মোঃ মানিক এর নিকটে স্বর্ণের বার বিক্রয় করেছেন। সকাল অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় বাদী ও তার মেজ ভাই জিতেন ধর (৪৮) পুঠিয়া হ’তে স্বর্ণের ১৭টি বার, যার প্রতিটির ওজন ১০ ভরি করে সর্বমোট ওজন ১৭০ ভরি, মূল্য অনুমান ১,১২,৭১,০০০/- টাকা একটি বাজারের সাদা ব্যাগে নিয়ে পুঠিয়া বাজার হ’তে রজণীগন্ধা বাস যোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা করে সকাল অনুমান ০৮.২০ ঘটিকার সময় ভদ্রা মোড়ে বাস থেকে নামেন। তারা দুইভাই ভদ্রা মোড় হ’তে দক্ষিণ দিকের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোঃ সূর্য (৩৫) এর চা দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র হঠাৎ দুইটি মোটর সাইকেল যোগে অজ্ঞাতনামা ০৪ জন আসামী বাদীর নিকটে এসে নিজেদেরকে “প্রশাসনের লোক” পরিচয় দেন এবং তাদের মধ্যে একজন বাদীকে হ্যান্ডকাপ দেখান। তারা বাদীর মেজ ভাইয়ের নিকটে থাকা স্বর্ণের বারের ব্যাগটি জোরপূর্বক নিয়ে বাদীদেরকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে নিয়ে শিরোইল শুভ পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ জনৈক মোঃ আব্দুল আওয়াল খান জ্যোতি এর নির্মাণাধীন বিল্ডিং পাশে পাথরের স্তুপের সামনে পৌঁছালে আসামীরা মোটর সাইকেল থামিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে বাদীর নিকটে থাকা ০১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ফোন সেট ও ০১টি নোকিয়া মোবাইল ফোন সেট এবং মানিব্যাগ জোরপূর্বক কেড়ে নেন। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া মডেল থানার মামলা নং-৬৬, তাং-২২/১২/২০২০ খ্রিঃ, ধারা-১৭০/৩৯২ পেনাল কোড রুজু করে মামলার তদন্তভার এসআই/মোঃ আঃ মতিন এর উপর অপর্ণ করা হয়।

মামলটি বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত রাখে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। এসি-বোয়ালিয়ার নেতৃত্বে আমি সংগীয় অফিসার ফোর্স সহ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২৫/১২/২০২০ খ্রিঃ বাদীর মেজ ভাই আসামী ১। জিতেন ধর (৪৮), পিতা-দ্বীনেশ ধর, সাং-পুঠিয়া শিবচৌকি উত্তরপাড়া, থানা-পুঠিয়া, জেলা-রাজশাহীকে দফায় দফায় ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে জিতেন ধর (৪৮) স্বর্ণের বার তার বাসায় আছে মর্মে স্বীকার করেন। জিতেন ধর (৪৮) কে নিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করে তার দেখানো মতে লুণ্ঠিত ১২টি স্বর্ণের বার তার নিজ বাড়ীর স্টিলের তৈরি আলমারীর লকারের মধ্যে এবং ০৪টি বাড়ীর নিচতলায় গ্যারেজের কার্ণিশ এর উপর হ’তে উদ্ধার পূর্বক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১২+৪= ১৬টি স্বর্নের বার, যার প্রতিটির ওজন ১০ ভরি করে সর্বমোট ওজন ১৬০ ভরি, মূল্য ১,০৬,৭২,০০০/-টাকা। আসামী ০১টি স্বর্ণের বার নাটোর জেলার সদর থানাধীন লালবাজার বাহাদুর শাহ মার্কেট “বিনয় জুয়েলারী ও জুয়েলারী স্টোর” নামক একটি স্বর্ণের দোকানে ৬,৬৭,০০০/- টাকা মূল্যে বিক্রয় করেছেন। “বিনয় জুয়েলারী ও জুয়েলারী স্টোর” এর মালিক বিনয় কুমার দাস স্বর্ণের বার ক্রয় করেছেন মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন। আসামী বাদীকে প্রবোধ দিয়ে উক্ত টাকা সহ আরো কিছু টাকা একত্রে ফেনী জেলার নুসরাত জুয়েলার্স এর মালিক মোঃ সুমন’কে দিয়েছেন। মোবাইল ফোনে মোঃ সুমন এর সাথে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধের বিষয়ের সত্যতা পাওয়া যায়।

মামলাটি প্রাথমিক তদন্তকালে এবং আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামী ১। জিতেন ধর (৪৮) তার পুঠিয়ায় ১০ শতক জায়গায় বাড়ী নির্মাণের সময় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। আসামীর প্রায় এককোটি চল্লিশ লক্ষ টাকার বেশী ঋণ আছে। আসামীদের চার ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ আছে। আসামী তার প্রতিবেশী মোঃ মিজানুর রহমান @ মিজান (৩৫) মুদি দোকানী, পিতা-সৈয়দ, সাং-পুঠিয়া শিবচৌকি উত্তরপাড়া (মিজানের মোড়), থানা-পুঠিয়া, জেলা-রাজশাহী এর সাথে স্বর্ণের বারগুলো ছিনতাই এর পূর্ব পরিকল্পনা করেন। বাদী ফেনী হ’তে স্বর্ণের বারগুলো এনে আসামীর বাড়ীতে গিয়ে তার হেফাজতে রাখার জন্য দেন। বাদীর অজান্তে আসামী কৌশলে স্বর্ণের বার গুলো তার বাসায় রেখে একটি সাদা ব্যাগে স্বর্ণের বারের পরিবর্তে ০৩টি সীসার রড কাগজে কসটেপ দিয়ে প্যাঁচিয়ে উক্ত ব্যাগ নিয়ে বাদীর সাথে বাস যোগে রাজশাহীতে আসেন, বাসের সাথে সাথে মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলে তার ভাতিজা মৃদুল (৩৪), পিতা-লাড্ডু, সাং-পুঠিয়া শিবচৌকি উত্তরপাড়া, থানা-পুঠিয়া, জেলা-রাজশাহীকে নিয়ে রাজশাহীতে আসেন। বাদী ও আসামী ভদ্রা মোড়ে বাস থেকে নামলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী মোঃ মিজানুর রহমান, মৃদুল (২৪) ও তার পরিচিত আরো ০৩ জন সহযোগী ০৩টি মোটর সাইকেল যোগে অন্যান্য আসামীদেরকে নিয়ে ঐ ব্যাগটি আসামী জিতেন ধর (৪৮) এর হাত থেকে জোরপূর্বক নিয়ে নেয় এবং তাদেরকে মোটর সাইকেল নিয়ে শিরোইল শুভ পেট্রোল পাম্বের দক্ষিণে জনৈক মোঃ আব্দুল আওয়াল খান জ্যোতি এর নির্মাণাধীন বিল্ডিং পাশে পাথরের স্তুপের সামনে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে বাদীর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। আসামী জিতেন ধর বাদীর হাত ধরে টেনে শুভ পেট্রোল পাম্পের দিকে নিয়ে আসেন। তারা অদৃশ্য হয়ে গেলে আসামীরা মোটর সাইকেল যোগে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামী বাদীর আপন ভাই ১। জিতেন ধর (৪৮), পলাতক আসামী ২। মোঃ মিজানুর রহমান @ মিজান (৩৫), ৩। মৃদুল (৩৪) ও তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগী আসামীদের নিয়ে এক অপরের জানা-শোনার মাধ্যমে এবং পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কৌশলে ঘটনাস্থলে ছিনতাই ঘটনার অবতারনার কথা স্বীকার করেছেন। পলাতক সহযোগী আসামীদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সেট এবং ব্যবহৃত হ্যান্ডকাপ, মোটর সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এভাবে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ক্লু-লেস ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামীকে সনাক্তপূর্বক গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের বার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

স্ব:বা/না

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *