চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সবুজ কে অপহরন ও গুম করা হয়েছে,আদালতে মামলা

রাজশাহী লীড
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের চককালিদাস গ্রামের মৃত কমর উদ্দিন সরদার এর পুত্র মোঃ সবুজ হোসেন কে চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে অপহরন করে গুম করেছে বলে জানা যায়। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সবুজের স্ত্রী মোছা জান্নাতুন হিরা বলেন আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন ১২ বছর যাবৎ সৌদি আরবে চাকুরী করে এবং মাঝে মধ্যে ছুটি পেলে বাংলাদেশে আসে। গত ইং ২০/০৬/২০২১ তারিখে আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন বাংলাদেশে আসে। ১৪ দিন হোম কোরান্টাইনে থাকার পর গ্রামের বাড়িতে আসে।
গ্রামের বাড়িতে আসার পর থেকে শৈলকোপা গ্রামের চাঁন মুহুরীর ছেলে রুকুনুজ্জামান (টুকু), চকরামকানু গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিন এর ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম, চককালিদাস গ্রামের মোঃ আঃ জব্বার এর ছেলে ফরহাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত বাবু এর ছেলে মোঃ লুৎফর ও মৃত নূর মোহাম্মাদ এর ছেলে মোঃ ইউনুছ সর্ব থানা ও জেলা নওগাঁ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে এবং বিভিন্ন ভাষায় গালি-গালাজ, ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি দিত। আমার স্বামী চাঁদার টাকা দিব না বললে সকল আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে শাসন-গর্জন সহ মিথ্যা মামলা দিবে এবং আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন কে একা পেলে হত্যা করে লাস গুম করবে বলে প্রকাশ্য দিবালকে হুকমি দেয়। পূবের চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে হঠাৎ করে গত ইং ১৬/০৭/২০২১ তারিখে সময় রাত্রী আনুমানিক ৯.০০ টার সময় আমার নিজ বাড়িতে নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ সহ উপরে উল্লেখিত আসামীগণ আমার বাড়িতে এসে আমার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আমি থানা পুলিশ এর কাছে থেকে কারণ জানতে চাইলে আমার স্বামীকে কেন থানায় নিয়ে যাবেন। তখন থানা পুলিশ বলে থানায় গেলে জানতে পারিবেন।
পরের দিন ইং ১৭/০৭/২০২১ তারিখে মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মানব পাচারের মামলা করে। আমার স্বামী সহ ০৪ (চার) জনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা দেয় এবং আমার স্বামী সবুজ কে আদালতে প্রেরণ করে। যেহেতু আমি থানায় খোজ নিয়ে জানতে পারি আমার স্বামীর নামে ইতি পূর্বে কোন মামলা মোকদ্দমা ও ওয়ারেন্ট নেই সেহেতু আমার স্বামীকে গত ইং ১৬/০৭/২০২১ তারিখে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অন্যায় ভাবে মারধর করে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন অপরাধ না পেয়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পূর্বের চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে বাদী হয়ে থানায় মামলা করে যা আমার জানা মতে মামলাটি সাজানে নাটক ও মিথ্যা মামলা। আমার স্বামী কাহারও কাছে থেকে কোন টাকা পয়সা নেয়নি এবং কাহাকেও বিদেশে পাঠাননি। শত্রুতামূলক ও হয়রানীমূলক ভাবে আমার স্বামী ও আমার পিতা মোঃ আঃ খালেক, আমার শ্বাশুরী মোছাঃ রাবেয়া বেগম (ভুদি) এবং আমার মামা শ্বশুর মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা করে। মানব পাচারের মামলা নং- জিআর ২৭৬/২১ (নওগাঁ)। গত ইং ০১/০৮/২০২১ তারিখে আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত হতে জামিনে মুক্তি পান। আমার স্বামী জামিনে মুক্তি হয়ে আসার পর থেকে পুণরায় পূর্বের পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। কেন টাকা দিব তা বলিলে উপরে উল্লেখিত আসামীগণ তোকে দেখে নিব বলে চলে যায়।
গত ইং ২৪/০৮/২০২১ তারিখে সময় রাত আনুমানিক ০১.০০ টার সময় উক্ত ৫ জন আসামী সহ আরও ৭/৮ জন্য অজ্ঞাতনামা আমার গ্রামের বাড়িতে এসে রাতের অন্ধকারে ডাকতে থাকে। আমার স্বামী সরল বিশ্বাসে ঘরের দরজা খুলে বাহিরে বের হলে আসামীগণ আমার স্বামীকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি বাধা দিলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমার পিঠে আঘাত করলে আমি মেঝেতে পড়ে যাই। তখন আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন কে সকল আসামীগণ হাত, চোখ-মুখ বেধে জোর পূর্বক অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আসামীগণ বলেন আমি ডাক-চিৎকার করিলে আমাকেও প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় আর বলে পাঁচ লক্ষ চাঁদার টাকা দিলে তোর স্বামীকে ফিরে পাবি। তা নাহলে পাবিনা। উক্ত ঘটনার পর থেকে আমার স্বামী মোঃ সবুজ হোসেন কে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তার মোবাইল ফোন বন্ধ। আমার স্বামী চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে খুন করার উদ্দেশ্যে উপরে উল্লেখিত পাঁচজন আসামী এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামীগণ মিলে অপহরণ করেছে। আমি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে সেখান থেকে আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, থানায় অভিযোগ দিতে। আমি গত ইং ২৬/০৮/২০২১ তারিখে নওগাঁ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্মকর্তা অভিযোগ না নিয়ে আমাকে চলে যেতে বলে। আমি মহিলা মানুষ কি করব তা ভেবে না পেয়ে গত ইং ২৯/০৮/২০২১ তারিখে আদালতে গিয়ে উকিলের মাধ্যমে ৫ জনকে আসামী করে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে ১নং আমলী আদালত নওগাঁয় মামলা দায়ের করি। মামলা নং- ৫৮৫ মিস/২১ (নওগাঁ)। আদালত এফআইআর হিসাবে তা গ্রহণ করার জন্য নওগাঁ সদর মডেল থানা বরাবর তা প্রেরণ করে।
আমার জানা মতে থানায় আদালতের নির্দেশ আসার শর্তেও আসামীগণ নিজ এলাকায় নিশ্চিতে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু, থানা পুলিশ তাদেরকে এখনও গ্রেফতার করেনি। এই ঘটনার বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় যোগাযোগ করে জানা যায় যে, আদালত থেকে থানায় মামলা এসেছে। তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জনাব মোঃ আব্দুল মজিদ এর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি থানায় না থাকায় মোবাইল ফোনে তার সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তিনি উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাছে থেকে আসামীগণ গ্রেফতার হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। ১নং আসামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় যে, তিনি বলেন ঘটনাটি মিথ্যা এবং আমার উপরে মিথ্যা মামলা করেছে যা সত্য নয়।
২নং আসামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় যে, ঘটনাটি সঠিক নয় ও মিথ্যা। সবুজ কে কোন অপহরণ করা হয়নি। এটি সাজানো গোছানো একটি নাটক। আর অন্যান্য আসামীর সঙ্গে দেখা করিতে গেলে তাদের কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। সবুজের স্ত্রী জান্নাতুন হিরা আরও বলেন গত ইং ২৩/০৮/২০২১ তারিখে সময় সকাল ১০.৩০ টায় নওগাঁ অফিস থেকে পিবিআই মোঃ জামান হোসেন আমাদের বাড়িতে এসেছিল এবং আমার স্বামীকে বাড়িতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করে যে, আমার স্বামী কোথায়? আমি তখন পিবিআই মোঃ জামান হোসেন  কে বলেছিলাম আমার স্বামী একটা জরুরী কাজে নওগাঁ শহরে গিয়েছেন কখন ফিরবেন তা সঠিক বলতে পারছিনা। কিন্তু, পিবিআই মোঃ জামান হোসেন আমার উত্তর শুনে আমাকে এবং আমার স্বামীকে বিভিন্ন ভাষায় গলিগালাজ করে।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে এসআই জামান হোসেন এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান যে, নওগাঁ আদালত হতে মামলাটি তদন্ত করার জন্য নওগাঁ পিবিআই অফিসে প্রেরিত হলে প্রধান কর্মকর্তা আমার উপরে উক্ত মামলার তদন্ত করার জন্য ভার দেন। আমি তদন্ত করার জন্য মোঃ সবুজ হোসেন এর বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং মোঃ সবুজ হোসেন কে বাড়িতে না পেয়ে তার স্ত্রীকে আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে চলে আসি ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে আমার সঙ্গে মোঃ সবুজ হোসেন কে যোগাযোগ করতে বলি। সবুজের স্ত্রী বলেন আমার একটি পুত্র সন্তান আছে। আমি বর্তমানে আমার সন্তান এবং আমার পরিবারে সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমি আশঙ্কা করিছে যে, মামলাটি যদি এই ভাবে অবহেলিত থেকে যায় এবং তার কোন যথাযথ প্রতিকার না হয় তবে আমি হয়তো আমার স্বামীকে আর জীবিত ফিরে পাব না এবং আমাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। কারণ, আসামীগণ অত্যন্ত প্রতিহিংসা পারায়ন। তারা যেকোন মুহুত্বে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে। তাই সকল আসামীকে অনতিবিলম্বে ধরে জেল হাজতে প্ররণ করার জন্য এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাচ্ছি।
এই ঘটনা ঘটার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। যে কোন সময় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আসামীদের দ্বারা শারীরিক, আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তাই আমি জান্নাতুন হিরা আমার সহ আমার পরিবারের সকলের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এবং আমার স্বামীকে আসামীগণের কবল থেকে মুক্ত করে আবার সুস্থ্য, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *