সম্মেলনে হামলা-ভাংচুর মামলায়, বাঘায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার-২

রাজশাহী লীড

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাঘা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে হামলা,ভাংচুর ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪-০৩-২০২২) রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় মেরাজ সরকার (২৮)কে গ্রেপ্তার করে বাঘা থানা পুলিশ। মেরাজ সরকার রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলার ৩নং পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মেরাজ সরকার কিশোরপুর গ্রামের মৃত রাকিব সরকারের ছেলে। আগের দিন বুধবার রাতে জুবান মালিথাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুবান মালিথা বাঘা পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। সে পৌরসভার কলিগ্রাম এলাকার মৃত নয়ন মালিথার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিম ।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ওসি জানান, গত ২১ মার্চ বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে হামলা,ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করে। এ ঘটনায় স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও পুলিশ বাদি হয়ে থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেছে। দু’টি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বাঘা পৌর সভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী ও ২ নম্বর আসামী করা হয়েছে মেরাজ সরকারকে। মামলা দু’টিতে ৮২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৭০০ জনকে। এই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজ সরকার ও জুবান মালিথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ঘটনার দিন ২১ মার্চ উপজেলার জোতকাদিরপুর গ্রামের খোস মোহাম্মদ খসুর ছেলে এজাজুল আহমেদ শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,গত ২১ মার্চ বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে, মঞ্চের আসনে থাকা কেন্দ্রীয় ও জেলা আ’লীগ নেতাদের ফুল দিয়ে বরনের পর পরই, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলীর সমর্থকরা মঞ্চের সামনে ‘আক্কাছ ভাই, আক্কাছ ভাই’ বলে শ্লোগান দেয়। এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে আক্কাছ আলীকে তার লোকজন নিয়ে সরে যেতে বলা হয়। এর এক পর্যায়ে আক্কাছের লোকজন মঞ্চের দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মারে। তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা। এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দু’দফা সংঘর্ষে ৪ পুলিশ ও ১ নারিসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়। পরবর্তীতে এর জের ধরে গত দুইদিনে দুই পক্ষের সমর্থিত দু’জনকে মারধর ও মেরাজ সরকারের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে।

স্ব.বা/বা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *