জলবায়ু পবির্তনে নেতিবাচক প্রভাব ও পানির সংকট: রাজশাহীতে পানি শুনানী

জাতীয় রাজশাহী লীড

স্টাফ রিপোর্টার : মিথ্যে আশ্বাসে আমাদের আর বিশ্বাস হয়না, শুধুই কথা বলে, এই প্রকল্প আসে, সেই প্রকল্প আসে কিন্তু আমাদের পানির সমস্যা সমাধান হয়না, জলবায়ু পরির্বতনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো যেমন আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দেয়, তাঁরাই আবার বিলাসী জীবন যাপন করছে, আবার আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীর ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেনা, তেমনি স্থানীয়ভাবেও সরকার আমাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছেনা।

জলবায়ু পরির্বতনে নেতিবাচক প্রভাবের কারনে বরেন্দ্র অঞ্চলে অনাবৃষ্টি, তীব্র দাপদহসহ কিছু কিছু এলাকায় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির দাবিতে, পানির সংকট সমাধানে বরেন্দ্র অঞ্চলের নারী, কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পানি শুনানীতে জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিসহ পানির সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেন।

বৃধবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২২) সকাল ১১ ঘটিকায় রাজশাহীর তানোর উপজেলা মন্ডুমালা পৌরসভার আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশ্ব জলবায়ু কর্ম-সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে জলবায়ু পরির্তন ও খরার কারনে সৃষ্ট পানি – দুর্গত মানুষের জবানবন্দী হিসেবে পানি শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরাম’র যৌথ আয়োজনে উক্ত পানি শুনানীতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ পানির অধিকার ও ন্যায্যতা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবার দাবি জানান।

পানি শুনানীতে বিভিন্ন দাবি সম্বিলিত প্লেকার্ড ফেস্টুন নিয়ে নারী শিশু ও কৃষকরা জলবায়ু পরির্বতনের জন্য ধনী দেশগুলোকে দায়ী করে ক্ষতি পূরণের দাবি করেন। শুনানীতে অংশগ্রহণকারী মন্ডুমালা মাহালী পাড়ার ক্রিস্টিনা হেম্রম( ৪৫) বলেন- এক কিলোমটিারের বেশি দুরে গিয়ে মাত্র এক কলস পানি সংগ্রহ করতে আমার কোমর ভেঙ্গেছে, আর্থিক অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি, আমার পরিবারের আত্নীয়স্বজনের আসলেও এই পানির কারনে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। পিরণপুকুর গ্রামের আঙ্গুরি বেগম (৩৮) বলেন- তীব্র দাপদহ এবং পানির অভাবে আমার একমাত্র সম্বল তিনটি ছাগল মারা গেছে। অন্যদিকে মিশন পাড়ার সুজললা মার্ডি (৪০) বলেন- এই তাপদহের কারনে আমার একটি গরুও মারা গিয়েছে।

অন্যদিকে দিনমজুর কৃষক শ্রমিক আলবিকুস হেম্রম (৪৮) বলেন- অনেক তাপমাত্রা, গরম আবার অনাবৃষ্টি, এর মধ্যে আবার পানি নেই, পানির অভাবে এবং তীব্র তাপদহের কারনে রোগ বালাইও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ভরা বর্ষার সময়েও তীব্র খরা এবং অনাবৃষ্টির কারনে তাঁর কোন কাজ ছিলো না, যার ফলে ধার দেনা বেড়ে গেছে। আবার এই গরমে জ¦ও সর্দি কাশিসহ নানা রোগ বালাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন- একদিকে যেমন কাজ নেই, অর্থেও অভাব, অন্যদিকে রোগ বালাইও বেড়েছে। ধার দেনা কওে দিন পার করতে হচ্ছে। পানি শুনানীতে জলবায়ু পরির্তন ও খরার কারনে সৃষ্ট পানি-দুর্গত মানুষ তাদেও ক্ষতিপূরণের দাবি করেন।

একদিকে যেমন জলবায়ু পরির্বতনের জন্য দায়ী ধনীদেশগুলো অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে সরকার যেন তাদের সমস্যাগুলো স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যার কারনে বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের যে আর্থিক, স্বাস্থ্য এবং মানসিকসহ নানা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তার জন্য ক্ষতিপুরণের জোর দাবি জানান। একইসাথে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবার দাবিও করেন।

উক্ত পানি শুনানী’তে অংশগ্রহণ ও সংহতি জ্ঞাপন করেন মন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান, বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন ফোরামের সভাপতি ও জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক নুর মোহাম্মদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বারসিক’র সমন্বয়কারি জাহাঙ্গীর আলম, বরেন্দ্র যুব সংগঠন ফোরাম’র আহবায়ক রুবেল হোসেন মিন্টুসহ প্রমুখ বৃক্তিবর্গ। পানি শুনানী’ টি পরিচালনা করেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারি ও গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম।

বিশেষজ্ঞ বক্তব্যে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন- জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা মোটেও দায়ী নই। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমাদের যে লস এবং ড্যামেজ হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া আমাদের ন্যায়সংগত অধিকার।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমঝোতার নামে বছরের পর বছর দেন দরবার করে কাটিয়ে দিয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত তারা সময় ক্ষেপন করছে কিন্তু তারা কোন সমাধানে পৈীছাতে পারেননি। যার ফলে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চত করছেনা।

স্ব.বা/ম

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.