ভুয়া সনদে ১৬ বছর শিক্ষকতা, অতঃপর…

সারাদেশ

স্বদেশবাণী ডেস্ক: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার লক্ষণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া বিএড সনদে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক শিক্ষক সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করেছে। তবে ওই শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির ওই নোটিশ গ্রহণ করেননি বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিযোগে জানা গেছে- গত ২০০৩ সালে আব্দুল্লাহ আল মামুন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালে জ্যেষ্ঠতা ভেঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আসীন হন। সরকারি বিধি মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ পেতে হলে ন্যূনতম ১০ বছর সহকারী শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু এই বিধির তোয়াক্কা করেন তিনি।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহণ করায় উক্ত পদে প্রার্থী হিসেবে দাখিলকৃত আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের ২০০৬ সালের আমেরিকা-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এবং ২০১৪ সালের রয়েল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপস্থাপিত ২টি বিএড সনদ ভুয়া বলে কমিটি জানতে পারে। এই ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোত নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনের সহকারী প্রধান হিসেবে নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে জ্যৈষ্ঠতা ভেঙ্গে সহকারী প্রধান হিসেবে তার নিয়োগ বিধি সম্মত নয়। এছাড়াও দাখিলকৃত ভূয়া সনদ প্রদানের জন্য আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বরখাস্তকরণের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বোর্ড অনুমোদন দিলেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক জেলা ও উপজেলা অফিসকে ম্যানেজ করে রাখার কারণে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অবগত করেছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল হক বলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিয়োগে অনেক ত্রুটি আছে, তার বিএড সনদ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, যে কারণে বিদ্যালয় কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

নিয়োগে ত্রুটি বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নিয়োগের সময় সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছিল না, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল- এ জন্য সে সময় তিনি বেতনও পাননি। তবে সনদের ত্রুটি বা অন্যান্য বিষয়টি অধিদপ্তর দেখবেন।

এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- আমার বিএড সনদ সঠিক আছে। আর ওই সময় সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য সরকারি ছাড় থাকায় আমি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ নিয়েছি। যার কাগজ আমার কাছে আছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *