ভাইসহ আ.লীগ নেতা হত্যার রায় প্রত্যাখ্যান, শরীয়তপুরে আধাবেলা হরতাল চলছে

সারাদেশ

স্বদেশবাণী ডেস্ক: শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও জজকোর্টের সাবেক পিপি হাবিবুর রহমান এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা মনির হোসেন মুন্সি হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে তাদের পক্ষের লোকজনের ডাকে জেলা শহরে আধাবেলা হরতাল কর্মসূচি চলছে।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে শরীয়তপুর জেলা শহরে হরতাল শুরু হয়; চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

এদিকে সকাল থেকেই হাবীবুর রহমানের ছেলে পৌর মেয়র পারভেজ রহমানের সমর্থকেরা শহরের ১৫টি স্থানে অবস্থান নেন। সড়ক বন্ধ করে দিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে তারা হরতাল পালন করছেন।

এর আগে রোববার ওই মামলার রায়ে ৫২ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। বাকিরা খালাস পেয়েছেন।

প্রভাবিত হয়ে আদালত এমন রায় দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মনির হোসেনের ছেলে বোরহান মুন্সি। তিনি বলেন, আমাদের চোখের সামনে বাবা ও চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। কারা এ হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা আমরা দেখেছি। সেভাবে মামলাও করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত অধিকাংশ আসামিকে খালাস দিয়েছেন। অনেককে সাজা কম দিয়েছেন। ২০ বছর মামলাটি নিয়ে অনেক চাপ ও হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন ন্যায়বিচারও পেলাম না।

পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, শহরে আধাবেলা হরতাল কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি বেলা ১২টা পর্যন্ত চলবে। হরতালে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়; সে জন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহার ও বাদীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জাজিরা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার।

আর স্বতন্ত্রপ্রার্থী ছিলেন কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব। তখন আওরঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

২০০১ সালে ১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সংঘর্ষের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়। স্থগিত হওয়া সেই নির্বাচন নিয়ে ৫ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং উত্তরবাজার এলাকার হাবীবুর রহমানের বাসভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে একটি সভা চলছিল।

সেখানে হামলা চালান স্বতন্ত্র প্রার্থী আওরঙ্গ-সমর্থক যুবলীগের সাবেক নেতা সরোয়ার হোসেন বাবুল তালুকদারের লোকজন। তার ভাই মঞ্জুর হোসেন মন্টু তালুকদার সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পর ওই বাসভবনে আবার হামলা হয়। তখন হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেনকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে খুন করে।

হাবীবুর রহমান তখন শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার ছোটভাই মনির হোসেন মুন্সি ছিলেন শরীয়তপুর পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত হাবীব রহমান আওরঙ্গকে প্রধান আসামি করে মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে তৎকালিন (পাংল জাজিরা) শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আওরঙ্গের নাম বাদ দিয়ে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার বাদী তখন আদালতে নারাজি দেন। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর পর জিন্নাত রহমান উচ্চ আদালতে রিট করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন আওরঙ্গ।

২০১৩ সালের ৩ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় আওরঙ্গ মারা যান। এর পর উচ্চ আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন পুলিশকে। পুলিশ ২০১৩ সালের অক্টোবরে আদালতে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আওরঙ্গ ছাড়াও ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহজাহান মাঝি ও স্বপন কোতোয়াল মৃত্যুবরণ করেছেন।

রোববার ওই মামলার রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ৩৯ আসামি। দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছে। ২৮ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *