ভোলার ৭ শ্রমিক এখনও নিখোঁজ, চতুর্থ তলায় কাজ করছিলেন তারা

জাতীয় লীড

স্বদেশবাণী ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাত শ্রমিক।

রোববার সকাল পর্যন্ত ওই সাতজনের সন্ধান মেলেনি। তারা কারখানার চতুর্থ তলায় কাজ করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। সেদিন তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও জানে না নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। তারা বেঁচে আছেন কিনা তাও জানা নেই উপজেলা প্রশাসনের। তবে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টির সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছে।

চরফ্যাশনে নিখোঁজ সাত শ্রমিক হলেন— মো. রাকিব (২০) ইউসুফ (১৮) শামীম (২০) মো. মহিউদ্দিন (২৫), হাসনাইন (১২)  রাকিব (১৯) ও  উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মান্নান মাতবরের ছেলে নোমান মিয়া (২০)।

তবে এদের মধ্যে চারজনের মারা যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আল এমরান প্রিন্স।

তিনি জানান, উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আমিনাবাদ গ্রামের ফজুলের ছেলে হাসনাইন (১২), একই বাড়ির কবিরের ছেলে রাকিব (২৮), এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নানের ছেলে নোমান এবং চরফ্যাশনের ওমরপুরের গোলাম হোসেনের ছেলে মহিউদ্দিন।

এর মধ্যে হাসনাইন ও রাকিব সেমাই প্যাকেটজাতকরণের কাজ করতেন। নিখোঁজ চারজনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি আমরা । কারণ তারা তখন (দুর্ঘটনার দিন) কারখানার চতুর্থ তলায় কাজ করছিলেন।

এদিকে দুঘটনার পর থেকে নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলের কথা বারবার মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা। কেউ সন্তান কেউ বাবা হারিয়েছেন।

নিখোঁজ হাসনাইনের বাবা ফজলু মোবাইল ফোনে জানান, তার ছেলে (হাসনাইন) ওই ফ্যাক্টরিতে কারিগর রাকিবের সহকারী হিসেবে চতুর্থ তলায় কাজ করত। দুর্ঘটনার দিনও তারা কারখানায় অবস্থান করেছিল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফজলু বলেন, গত বুধবার ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়েছিল। সে বলেছিল (হাসনাইন) বাবা ছয় দিন পরেই বাড়িতে চলে আসব। কিন্তু আমি তাকে (হাসনাইকে) বলেছি— লকডাউনের মধ্যে আসার দরকার নেই, তুমি তোমার মামার বাড়িতে থাকো।

আমি সেখানে ফোন করে দেব। এর পর আর ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। আমার একমাত্র ছেলে। সে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ছেলে তো আর ফিরে এলো না। আমি এখন কী নিয়ে থাকব। আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা তিনজনের নাম-ঠিকানা পেয়েছি, তারা সবাই চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা এবং দুর্ঘটনাকবলিত কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তবে তাদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা ঢাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *