রাজশাহীর মোহনপুরে খাল দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩

রাজশাহী

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ভীমনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির লীজকৃত খাল জোর করে দখল করতে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়ে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভীমনগর গ্রামে।

শনিবার (১০ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ভীমনগর গ্রামের মৃত পিয়ার বক্সের ছেলে ও ধুরইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম ক্ষতার প্রভাব খাটিয়ে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন নিরহ মানুষের ভূমি দখল, মানুষের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছিল। একই গ্রামের বকুল ইসলাম বলেন, যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ । ক্ষমতার দাপটে মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতে থাকে।

খাল লীজকৃত জাহাঙ্গীর আলম (৪৭) বলেন, আশরাফুল আলম ধুরইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষতার প্রভাব খাটিয়ে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী সংঘবদ্ধ করে জমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের সাথে এবং আমার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা করে। কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ করে সে আমাকে বলে আমার লীজকৃত খালের ২ বিঘা জমি নাকি সে লীজ নিয়েছে। আমি জানাই এ বছর যেহেতু বর্ষা চলে এসেছে এবং এই খালের সমস্ত জমি আমার লীজকৃত। এমনকি আপনি যে, ২ বিঘা জমির কথা বলছেন সেটাও এই বছরে আমার লীজ নেওয়া আছে। তাই আগামী বছর পাহাড়ি বেঁধে আলাদা করে আপনি ২ বিঘা জমি চাষ করবেন তাহলে আমার কোন আপত্তি নাই। যেহেতু জমিজমা নিয়ে আপনার সঙ্গে আমার পূর্বে অনেক ঝামেলা আছে এবং মামলা চলমান রয়েছে তাই দয়াকরে আর নতুন কোন ঝামেলা বাধাবেন না। কিন্তু গত বুধবার আমার মাছ চাষকৃত খালে আশরাফুল আলম সহ তার ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে ভীমনগর মৌজায় অবস্থিত খাল জোরপূর্বক দখল করতে থাকে। ওই সময় গ্রামের সকল নারী-পুরুষ একজোট হয়ে দখলকারীদের ধাওয়া করলে এলোপাতাড়ি মারপিঠের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়।

ধুরইল ইউনিয়নের ৭,৮,৯ সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মর্জিনা বেগম (৫৫) বলেন, জাহাঙ্গীর অনেক বছর যাবৎ ঐ খাল লীজ নিয়ে মাছচাষ করছেন। ঘটনার দিন আশরাফুল আলম জোর করে দেশীয় অস্ত্রপাতি নিয়ে অনেক মানুষ সহ এসে জোর করে খালটি দখল ও মাছ চাষে চেষ্টা করে। যেহেতু গ্রামের অসংখ্য মানুষ আশরাফুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাই সবাই সেদিন বাধ্য হয়ে আশরাফুলের সন্ত্রাসী বাহিনীকে ধাওয়া করে এবং সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

ভীমনগর গ্রামের সোহেলা রানা (৩৫) জানান, জাহাঙ্গীর আলম খালটি উপজেলা ভূমি অফিস, মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও স্থানীয় জমির মালিকদের নিকট হতে লীজ নিয়ে ১০ বছর ধরে ৩০ বিঘা আয়তনের খালটিতে মাছ চাষ আসছিল। যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম ওই ৩০ বিঘা খালের মধ্যে মাত্র ৬৬ শতক জমি ভীমনগর গ্রামের মৃত মানিকুল্লার ছেলে মোঃ সমতুল্লাহের নিকট হতে নামমাত্র লীজ নেয়। গত বুধবার (৭ জুলাই) পুরো খালটি ৩৫/৪০ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে দখল করতে যান আশরাফুল আলম। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন ভীমনগর গ্রামের আশরাফুল আলম (৪৫), একই গ্রামের মৃত মানিকুল্লার ছেলে মোঃ সমতুল্লাহ (৫২) ও তার স্ত্রী শিরিন আকতার (৪৫)। বর্তমানে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

উক্ত ২ বিঘা জমির মালিক ভীমনগর গ্রামের মৃত মানিকুল্লার ছেলে আবুল কাসেম (৪৮) বলেন, জাহাঙ্গীর প্রায় ৮/১০ বছর আমাদের খালের মধ্যের জমিটি (তার ভাষ্যমতে ২বিঘা ৫ শতক) সহ খালের জমি মানে এই ব্রিজ হতে খালের ঐ প্রান্তের ব্রিজ পর্যন্ত সমস্ত জমিতে মাছচাষ করেন। এবছর আশরাফুল আলম জাহাঙ্গীরের থেকে বেশি টাকার অফার করায় আমরা জমিটি তাকে দিয়েছি। ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম। লোকজনের চিল্লাফাল্লাতে আমি বাড়ির বাইরে বের হয় এবং দেখি আশরাফুলসহ আমার ভাইদেরকে জাহাঙ্গীরের লোকজন এবং গ্রামের অসংখ্য মানুষ মারধর করছে। আমি তাদেরকে বাঁচানোর জন্য যেতে চাইলে আমার বাড়ির সদস্যরা আমাকে বাধা দেয় এবং আমি বাড়ির ভিতরে চলে যায়। পরবর্তীতে জানতে পারি আমার ভাই-ভাবি সহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

এবিষয়ে ভীমনগর গ্রামের আহত সমতুল্লাহ (৫২)এর ছেলে নজরুল ইসলাম (৩২) বলেন, ঘটনার দিন আমি, আশরাফুল আলম সহ কয়েকজন মিলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলাম। হঠাৎ করে জাহাঙ্গীর সহ তাদের লোকজন এসে আমাদের আক্রমণ করে এবং আশরাফুল সহ আমার পিতা-মাতা মারাক্তভাবে আহত হন এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধুরইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম দীর্ঘদিন থেকে এলাকার অনেক নিরহ মানুষের উপর ক্ষমতার প্রভার খাটিয়ে জায়গা-জমি পুকুর দখলসহ অত্যাচার করে আসছিল। আমি সহ এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ইতি পূর্বে এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিষয় বৈঠক করে তাকে সাবধান করা হয়। তারপরেও একের পর এক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

আশরাফুল আলম (৪৫) ও সমতুল্লাহ (৫২) চিকিৎসাধীন থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুল ইসলাম বলেন , এখন পযন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকার পরিস্থিতি এখন সাভাবিক রয়েছে।

 

স্ব:বা/না

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *